
মো:নাঈম শেখ
খুলনা শহরের ব্যস্ততা পেরিয়ে যখন গল্লামারী মোড়ে চোখ মেলে, তখনই যেন এক অন্য জগতে প্রবেশের অনুভূতি জাগে। সবুজে মোড়া প্রশস্ত ক্যাম্পাস, নীরব অথচ প্রাণবন্ত পরিবেশ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এক শিল্পকর্ম। এখানে সৌন্দর্যের প্রতিটি উপাদান মিলে মিশে এক স্বপ্নরাজ্য তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের মনন গঠনের পাশাপাশি হৃদয়ে জাগায় গভীর প্রশান্তি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মুহূর্তেই যে জিনিসটি সবার নজর কাড়ে, তা হলো এর অপরূপ সবুজ সৌন্দর্য। বিশাল খোলা মাঠ, দিগন্তজোড়া গাছের সারি আর পথের দুই ধারে সারি সারি ছায়াঘেরা বৃক্ষ—প্রকৃতির এ অনন্য রূপ যেন যে কোনো আগন্তুকের চোখ আটকে রাখে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণেই রয়েছে প্রকৃতির স্নিগ্ধ ছোঁয়া। নানারঙের ফুল ও গাছপালা যেন প্রকৃতি ও জ্ঞানের এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যও এর সৌন্দর্যের অন্যতম দিক। আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও এখানে কংক্রিটের চেয়ে সবুজের আধিপত্য বেশি। প্রতিটি একাডেমিক ভবনের চারপাশে শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ফুলগাছ , যা সকালবেলা রঙিন প্রজাপতির নৃত্যে মুখর হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছোট ছোট লেক আর পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠা পদ্মফুল, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে যেন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সন্ধ্যার পর যখন ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে আসে নীরবতা, তখন আকাশ ভরা তারার আলো আর চারপাশের আলো মিলেমিশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয় এক স্বপ্নিল আবহ। হালকা বাতাস আর গাছের পাতার মৃদু শব্দে সেই সময় যেন শিক্ষার্থীদের মনেও বাজে প্রকৃতির সুর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি যেন একটি জীবন্ত কাব্য, যেখানে শিক্ষার সঙ্গে মিশে আছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। এখানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞানই আহরণ করে না, শিখে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে, শিখে স্বপ্ন দেখতে।