নার্গিস রুবি:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দেওয়ানপাড়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/১ এর আওতাধীন এলাকায় নকশা ও আইনবিধি উপেক্ষা করে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ চলছে। প্রকল্পের নাম মালিকের নামেই—আব্দুল ওহাব দেওয়ান। রাজউকের অনুমোদন স্মারক নং ২৫.৩৯.০০০০.০৯৮.৩৩.১৮১৪.২২ অনুযায়ী ৮ তলা অনুমোদিত হলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৯ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এবং বহুমুখী অনিয়ম স্পষ্ট।
বহুমুখী অনিয়ম ও আইনি লঙ্ঘন:
সেটব্যাক উপেক্ষা: অনুমোদিত নকশার নির্ধারিত জায়গা না মেনে প্রতিটি তলায় অতিরিক্ত বারান্দা ও ছাদ তৈরি।
নিরাপত্তাহীনতা: শ্রমিকদের জন্য নেই সেফটি নেট, সেফটি গার্ড বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী গুরুতর লঙ্ঘন।
অতিরিক্ত তলা নির্মাণ: বেজমেন্ট বাদে অনুমোদিত ৮ তলার বাইরে অতিরিক্ত একটি তলা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:
নগর পরিকল্পনাবিদরা জানিয়েছেন, নকশা অনুযায়ী লোড-বিয়ারিং কাঠামো না মানলে ভবনের ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় এ ধরনের অনিয়ম যে কোনো সময় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “রাজউকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও নজরদারির অভাব চলতে থাকলে ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ধ্বংস হয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি:
ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের ইমারত পরিদর্শক সামিউল মালিকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে অবৈধ নির্মাণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একাধিকবার ভবন পরিদর্শনে গিয়েও তিনি নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেননি। এ বিষয়ে সামিউল অভিযোগ অস্বীকার করলেও কোনো প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন:
১) অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করা,
২) স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন,
৩) দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা,
৪) সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা,
৫) স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ দল গঠন।
তাদের ভাষ্যে, “এটি শুধুমাত্র একটি ভবনের নকশা লঙ্ঘন নয়; বরং ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ।”
রাজউকের বক্তব্য:
অথরাইজড অফিসার শেখ মাহাব্বির রনি জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভবন মালিক আব্দুল ওহাব দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ও নগরবাসীর মতে, আইন প্রয়োগ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা ছাড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।