রাজিব হোসেন, শরণখোলা (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের শরণখোলায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর রায়েন্দা বাজার শাখার এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। ভুক্তভোগী গ্রাহকের দাবি, ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুরো টাকাটাই খোয়া গেছে। গত ১ জুলাই (বুধবার) শরণখোলা উপজেলার শেরেবাংলা রোডস্থ সোনালী ব্যাংকের রায়েন্দা বাজার শাখায় এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোমেনা আক্তার উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি বর্তমানে বাগেরহাট পিটিআই-তে (প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে মোমেনা আক্তারের মোবাইল ফোনে বেশ কিছু মেসেজ আসে এবং ১০-১২ মিনিট পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। এরপরই তাঁর মোবাইলে অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ৪,০০০ টাকা উত্তোলনের একটি বার্তা (এসএমএস) আসে। নিজে কোনো টাকা উত্তোলন না করায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সোনালী ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু ব্যবস্থাপক ব্যাংকের কাজে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন। পরের দিন ২ জুলাই ওই গ্রাহক তাঁর হিসাব নম্বর (২৯১৩২০১০ ২৭০৩৭) যাচাই করে দেখতে পান, অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে হ্যাকাররা।
গ্রাহক মোমেনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথমবার ৪ হাজার টাকা কাটার পরপরই আমি ম্যানেজার সাহেবকে ফোন করে অ্যাকাউন্টটি লক বা ফ্রিজ করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি যদি তখন আমার কথা গুরুত্ব দিয়ে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করতেন, তবে হ্যাকাররা বাকি টাকা নিতে পারত না। তিনি আমার সাথে অত্যন্ত দায়িত্বহীন আচরণ করেছেন।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের মোবাইল বা কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে ‘ফাস্ট পেমেন্ট সার্ভিস (FPS)’ অথবা ‘পয়েন্ট অব সেল (POS)’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে।
গ্রাহককে সহযোগিতা না করার অভিযোগ অস্বীকার করে রায়েন্দা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রাহকের কার্ডের গোপন পিন নম্বর কোনোভাবে দুর্বৃত্তরা জেনে ফেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। আর ওই দিন সারা দেশে ব্যাংকিং লেনদেন ক্লোজিং (ক্লোজড) থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা প্রযুক্তিগত কারণে সম্ভব ছিল না।”
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের এই যুগে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী মহল।