শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
রাজশাহীকে নতুন করে সাজাতে চাই: রাসিক প্রশাসক সুন্দরবনে ‘আগে চাঁদা, পরে মধু’, দস্যুদের দাপটে বিপাকে মৌয়ালরা রাজধানীর মিরপুর-১ এর দারুসসালাম রোড এলাকায় নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বিতর্কিত নিয়োগ: ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানকে ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির গুরুতর অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ক্ষয়ক্ষতি ১০ লক্ষাধিক টাকা চন্দনাইশের দোহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত আমরা স্বার্থপর, তবুও মানুষ হিসেবে আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি! রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ, থামেনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ কাজ BNP Network” কেন্দ্র করে বিএনপির বিজিএন: তৃণমূল-কেন্দ্র সংযোগ জোরদার রাজশাহীবাসী আরও উন্নত নগর সেবা পাবে

একজন হাবিবুর রহমানের শুভ জন্মদিনে…………

 

শ্রদ্ধাভাজনেষু,

অনেক অনেক শুভেচ্ছা নিবেন। আজ ১৫ নভেম্বর ২০২৫। প্রতিদিনের মতো আজো একটি ঝলমলে সোনালী দিন। কখনোবা মানুষের মতোই প্রকৃতির বৈরী আচরন দেখছি; আকাশের মন ভালো নেই! অনেক অনেক জমানো অভিমানগুলো যেন শিশির ফোঁটা হয়ে ঝরছে অবিরত! কখনো আবার ভ্যাপসা গরমে হাপিত্যেশ অবস্থা!
পুরো পৃথিবী জুড়ে আজ অন্যান্য দিনের মতোই সাধারণ একটি দিন বটে! আজো পুরো পৃথিবী জুড়ে উন্নয়নের জয়ধ্বনি শোনা যায়; কোথাও আবার খেটে খাওয়া সংগ্রামী মানুষের হাহাকার! বুবুক্ষদের করুন চিৎকারে নড়ে চড়ে বসে বিবেক তাড়িত মানুষ!
শাসন-শোষনের দ্বৈরথ আজো চলছে পুরো বিশ্ব জুড়ে! আজকের দিনেও অনেক বড় ডিগ্রিধারী মহান ব্যক্তিগণ তাঁদের প্রিয় মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে সন্তানের দায়িত্ব পালন করেন! একই সাথে অনেক অল্প শিক্ষিত খেটে খাওয়া শ্রমিক জনম দু:খী মা’কে এক মুঠো ভাত তুলে দেয়! মায়ের শুকনো হাসি দেখে কী মুহুর্তেই সকল দু:খগুলো ম্লান হয়ে যায়না তখন?
হ্যাঁ, আজ আপনার বয়সী এক শ্রেণীর মানুষেরা যখন মহা আনন্দের নামে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে উঠে, ঠিক একই সময়ে আপনি জীবিকায়নের পাশাপশি অনেক অনেক বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে মুছেও পবিত্র হাসির ঝিলিক দেখিয়ে চলেছেন অবিরত, তা দেখে সকলেই আবেগাপ্লুত হই বৈকি!
বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের মানুষেরাও বাণিজ্যিক আচরণেও পিছিয়ে নেই এতটুকু! পৃথিবী যেন তাদের হাতে মুঠোয়! আপনি তখন দ্বিধাহীন চিত্তে অকৃত্রিম ভালোবাসার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। আপনি যেন উত্তরসূরীদের শেখাচ্ছেন, কিভাবে তারা সাজাবে এ পৃথিবী? কিভাবে বাংলাদেশের পারিবারিক পৃথিবীটাকে মেরামত করবে? আপনার কর্মকান্ড দেখে মনে বিশ্বাস জাগে, “নিশ্চয়ই আমাদের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে বলেই অনেক প্রত্যাশা আজ নবীন প্রজন্মের কাছে প্রবীণ হতভাগ্যদের!”
আপনিই যেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা দেখে স্বপ্ন দেখি, আজ নবীনরা পড়ালেখার জন্য যেভাবে ছুটছে,সেভাবে কি ”মানুষ” হবার জন্য এতটুকু নিবেদন করেছে? হয়তো করছে, হয়তো না; তবে আপনি যেন বিরামহীনভাবে করেই চলেছেন! আজ চরম অস্থিরতা আর উৎকন্ঠার মাঝে দিনাতিপাত করে প্রতিটি সন্তানের মা-বাবাগণ! তাদের নির্লিপ্ত হাসির অন্তরালে জমে থাকে একরাশ দুশ্চিন্তার কালো মেঘ!
প্রতিটি পদক্ষেপে অনেক সাবধানে চলাকেই তো শালীনতা বলা হয়, তা কি আমরা জানি? হ্যাঁ, আমাদের প্রিয়জন, প্রত্যাশিত মানুষটি তা খুব ভালোই জানে। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, ছোট্টবেলায় সহোদরদেরকে লালন পালন করতে গিয়ে কতটাই না সাবধানী ছিলেন…! কতই না নিজেকে উতসর্গ করেছেন!” সবার সুখ-শান্তির কথা বিবেচনা কারণেই কিনা নিজের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছেন ! তাতে কি? অবশেষে শক্তভাবে ঠিকই তো দাঁড়াতে শিখলেন! আপনার নিকট জনেরা কিন্তু ঠিক তখনই আপনার বিবেচনাবোধ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছিলেন। এক্সাক্টলি, ইউ ওয়্যার এ্যাবসুলেটলি রাইট মাই ডিয়ার রিসপেক্টেড পারসোনেল! জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এটা মনে রাখা খুবই জরুরী যে, “লুক বিফোর ইউ লীপ…”
সেদিনের সেই ছোট্টটি আজ আপনি কেবলমাত্র বয়সে যথেষ্ট বড় হননি! বরং পূর্নাঙ্গ মানুষও হতে পেরেছেন বটে! আমরা চাই এখন থেকে প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহুর্তে ’মানুষ’ হবার আন্দোলনে মেতে উঠবো আপনার অনুপ্রেরণায়! মানবতা বোধ ও কর্মনিষ্ঠায় আপনার একাগ্রতা একদিকে যেমন আমাদেরকে গর্বিত করেছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবেও যেন বাঁচতে শেখাচ্ছে! ইউ নো বেটার, হোয়াট ইজ রাইট অর রঙ! সো, আপনাকে বলবার কিছুই নেই! শুধুমাত্র এতটুকুই বলবো, একজন প্রকৃত মানুষের লেন্স দিয়ে যেম সবকিছু দেখেন, নিজের বিবেচনাবোধ সম্পর্কে আমাদেরকেও প্রকৃত শিক্ষা দিন, একদিন আমরাও শিখবো আসলে আমাদের কি করা উচিৎ! আমরা আপনার সাথে আছি প্রিয় ব্যক্তিত্ব। শুড আই নট বি ইয়্যুর বেস্ট ফ্রেন্ড? ইয়েস আই এম অলয়েজ ইউথ ইউ ডিয়ার! আজ এত কথা কেন বলছি, তা তো নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারছেন! হ্যাঁ, আজ যে আপনার জন্মদিন। আপনাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। এই বিশেষ দিনে, খুব করে আমার মনে পড়ছে আপনার সাথে কাটানো আমার শৈশব-যৌবন কালের কথা। আমাদের ঐকান্তিক সেই দিনগুলো, যখন আমরা হেসে-খেলে, খুঁনসুটিতে কাটাতাম! সেগুলো আজও আমার হৃদয়ে অমলিন। ধীরে ধীরে আপনি আজ কত্ত বড় প্রিয় মানুষ হয়ে গেছেন! আমার চোখে আপনি সবসময়ই সেই বিনয়ী ও সুবিবেচক রয়ে যাবেন!একজন অসাধারণ দীপ্ত মানুষ হিসেবে আপনার এই পথচলা আমাদের প্রত্যেককে নিবিড়ভাবে মুগ্ধ করেছে।
আমাদের কাছে আপনি সবসময়ই এক বিশেষ অনুপ্রেরণার নাম। আপনার মধ্যে আমি যে আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা এবং ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তা তো সত্যিই অসাধারণ! এজন্য আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা!জীবনে চলার পথে অনেক বাঁধা আসবে, কিন্তু সবসময় মনে রাখবেন যে, আপনার স্নেহাশিস সকলে সবসময়ই আপনার পাশে আছে। আপনার সাথে আছে। ইনশাল্লাহ যে কোনো পরিস্থিতিতে, আমরা আপনার পাশে ছায়া হয়ে থাকব।
আজ ১৫ নভেম্বর। পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যা কিছুই ঘটুক না কেন, আজ সবার কাছে দিনটি যত সাদামাটাই হোক না কেন, আমাদের কাছে নিশ্চয়ই একটি বিশেষ মহিমান্বিত দিন। আজ যে আপনার শুভ জন্মদিন, হে প্রিয়জ । আপনার জীবন আলোকময় হোক এবং আপনার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক।
ইতি,
আপনার স্নেহধন্য সকলে।”

লেখক:
তানজিমুল ইসলাম,
লেখক ও কলামিস্ট!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *