বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
শরণখোলায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কার্ড ধারী জেলেরা। রাজশাহীতে ১০০০ পিচ ইয়াবা সহ যুবক গ্রেফতার আন্তর্জাতিক মে দিবসে মোরেলগঞ্জে শ্রমিক দলের উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সকল সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন। খাউলিয়া ইউনিয়ন উন্নয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আবু সালে খান বেঁচে থাকার পথ, না নতুন ফাঁদ? জলবায়ু-প্রভাবিত অভিবাসনে ঢাকার বাস্তবতা নবনির্বাচিত রিহ্যাব পরিচালনা পরিষদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন – মোঃ জাকির হোসেন। ৷৷৷ বিষয় এনবিআর ।৷৷ রাবিতে উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিলো ভিপি রাজধানীর মিরপুর-১১ তে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৬ তলা ভবন নির্মাণ, রাজউকের রহস্যজনক নিরবতা

রাজধানীর মিরপুর-১ এর গোলারটেকে নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

 

আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে রাজউক

নার্গিস রুবি:

রাজধানীর মিরপুর-১ এর গোলারটেক এলাকায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি নির্মাণাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডেভেলপার মালিক মফিজুর রহমান গং এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এমএটি হোল্ডিং লিমিটেড কর্তৃক বাড়ি নম্বর-১০৪, গোলারটেক, মিরপুর-১, ঢাকায় ৭ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোনাল অফিস ৩/২ এর আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ডেভিয়েশন বা নকশা বিচ্যুতি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের উচ্চতা, সেটব্যাক, ফ্লোর স্পেস এবং অন্যান্য নির্মাণ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবুও নির্মাণ কাজ থামাতে বা সংশোধন করতে রাজউকের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে রাজউকের জোনাল অফিস ৩/২ এ গেলে সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ এবং ইমারত পরিদর্শক ফারহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে অফিস সময়ে তাদেরকে অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে ভবনটি বর্তমানে প্রায় ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবন মালিক বা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করা হলে তা নগর পরিকল্পনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এতে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নি নিরাপত্তা, পার্কিং ব্যবস্থা, আলো-বাতাস চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অনুমোদনবিহীন বা নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ বন্ধে নিয়মিত তদারকি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই ভবন মালিক ও ডেভেলপাররা এসব অনিয়ম করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নগরবাসীর দাবি, রাজধানীতে নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে নকশা লঙ্ঘনকারী ভবনের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *