শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
রাজশাহীকে নতুন করে সাজাতে চাই: রাসিক প্রশাসক সুন্দরবনে ‘আগে চাঁদা, পরে মধু’, দস্যুদের দাপটে বিপাকে মৌয়ালরা রাজধানীর মিরপুর-১ এর দারুসসালাম রোড এলাকায় নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বিতর্কিত নিয়োগ: ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানকে ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির গুরুতর অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ক্ষয়ক্ষতি ১০ লক্ষাধিক টাকা চন্দনাইশের দোহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত আমরা স্বার্থপর, তবুও মানুষ হিসেবে আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি! রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ, থামেনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ কাজ BNP Network” কেন্দ্র করে বিএনপির বিজিএন: তৃণমূল-কেন্দ্র সংযোগ জোরদার রাজশাহীবাসী আরও উন্নত নগর সেবা পাবে

রাজধানীর মিরপুরে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঝুঁকিপূর্ন ভবন নির্মাণ

 

ভবন মালিকের দম্ভোক্তি; আমার ভাই আর্মির বিগ্রেডিয়ার জেনারেল!

 

নার্গিস রুবি:

রাজধানীর মিরপুরে রূপনগর থানাধীন আরিফাবাদ হাউজিং সোসাইটির প্লট নং ৮/এ, রোড নং ৩, ব্লক-কে এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর সাততলা ভবন নির্মাণের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজউক জোনাল অফিস ৩/১ এর আওতাধীন এই ভবনটি অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে সেটব্যাক ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

অনিয়ম ও দম্ভোক্তি:

ভবন মালিক প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি নকশা লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি দাবি করেন— “আমার ভাই আর্মির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, তাই আপনার সাংবাদিকতা আগে যাচাই করে তারপর অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে কথা বলবো।”

নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজ:

নির্মাণস্থলে শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য কোনো সেফটি নেট বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও এখানে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণস্থলে কোনো তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ডও নেই।

নগর পরিকল্পনাবিদদের সতর্কবার্তা:

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করলে ভবনের কাঠামোগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেন, “রাজউকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও নজরদারির অভাব অব্যাহত থাকলে ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ধ্বংস হয়ে যাবে।”

স্থানীয়দের দাবি:

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে—
১. নির্মাণকাজ বন্ধ করা,
২. স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন,
৩. দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা,
৪. সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা,
৫. স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ দল গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের ভাষায়, “এটি কেবল একটি ভবনের নকশা লঙ্ঘন নয়; বরং ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ।”

রাজউকের প্রতিক্রিয়া:

রাজউকের অথরাইজড অফিসার শেখ মাহাব্বির রনি ও ইমারত পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয়দের অভিমত, আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের নকশাবহির্ভূত নির্মাণ রোধ সম্ভব নয়। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *