শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা
আগামী দুই বছরের মধ্যে নীলফামারীতে পুষ্টিহীনতার হার ১৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগে আনার প্রত্যয়ে গ্লোবাল ক্যাম্পেইন “এনাফ” এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নীলফামারী এরিয়া কো-অর্ডিনেশন অফিস এ কাজ বাস্তবায়ন করবে। রোববার গতকাল রবিার ২৯ জুন ২০২৫ বেলা ১১টায় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা পুষ্টি কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নীলফামারী এরিয়া অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার অনুকুল চন্দ্র বর্মণ।
সভায় জানানো হয়, ক্ষুধা ও শিশু অপুষ্টি প্রতিরোধে ‘এনাফ ক্যাম্পেইন’ এর মাধ্যমে জেলার সদর উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৪০হাজার পরিবারকে স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছানো হবে।
এজন্য একশ’ জন ফিল্ড কর্মী কাজ করবেন। প্রসুতি মা ও শিশু ছাড়াও র্শিক্ষার্থীদের পুষ্টির অভাব পূরণে সচেতনতা মুলক নানা কর্মসুটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় সংস্থার অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর তানজিমুল ইসলাম এই বিশেষ এডভোকেসি প্রোগ্রামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. জয়ন্ত কুমার নাথ, এনাফ ক্যাম্পেইনের পরিসংখ্যানগত তথ্য ও গুরুত্বসমূহ বিশদভাবে উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত সকলের নজর কেড়েছে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আবু বকর সাইফুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা কবির উদ্দিন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর তানজিমুল ইসলাম জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে “এনাফ“ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জেলার দুই উপজেলায় ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতা রোধে স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছানো হবে।তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলে বাকি উপজেলাগুলোতেও এনাফ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতা বিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়ার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত ওয়ার্ল্ড ভিশণ। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্টানসমূহকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এর ফলে এই এলাকার জনগণ শক্তিমান ও বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
উক্ত এডভোকেসি সভার প্রধান অতিথি ও জেলা প্রশাসক, নীলফামারী ওয়ার্ল্ড ভিশনের এ উদ্যোগকে সাধূবাদ জানান ও অত্যন্ত যুগোপযুগী কর্মসূচি বলেও আখ্যায়িত করেন। পরবর্তীতে জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সকল মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা সহ ওয়ার্ল্ড ভিশনের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরবার আহ্বান করেন যা কিনা অন্য সংস্থাসমূহকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে। এছাড়া উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এজন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নীলফামারী অঞ্চলের ব্যবস্থাপক জনাব অনুকুল চন্দ্র বর্ম্মনকে এজন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।