মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি বৃক্ষরোপন ২০২৬ ইং আমাদের প্রত্যয়, শিশুশ্রম আর নয়’! শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা গ্রাহক: রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিলের অভিযোগ মানবিক সাহায্যের আবেদন জানালেন পরিবার চন্দনাইশের এয়াকুব ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে ঘরে চন্দনাইশে একটি সেতুর দাবি বরমা ও মধ্যম চরতিবাসীর। ১৮৮০ সাল থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধে চলছে কার্যক্রম চন্দনাইশে প্রতিকূলতা ঠেলে এগিয়ে চলেছে জোয়ারা পাগলা গারদ। চন্দনাইশে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরষ্কার বিতরণ। চন্দনাইশে ২ শ্রমিক পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেল। চন্দনাইশ সাতবাড়িয়া-বরকল-বৈলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন। চন্দনাইশ থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

খুবির এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় সবার শ্রদ্ধা-ভালবাসায় সিক্ত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নানের কর্মজীবনের সফল সমাপ্তিতে এক হৃদয়ছোঁয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন,
“প্রফেসর মান্নান ছিলেন একজন বিনয়ী, ধৈর্যশীল ও সদালাপী মানুষ। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন শিক্ষার্থীদের প্রিয় ছিলেন, তেমনি গবেষণার ক্ষেত্রেও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কর্মজীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর মতো গুণী শিক্ষককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও মেধা অবসরকালেও কাজে লাগাতে চাইলে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশীদ খান। তিনি মতপ্রকাশ করে বলেন,
“একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের অবসান মানেই তাঁর অবদান শেষ হয়ে যাওয়া নয়। প্রফেসর মান্নানের মতো একজন শিক্ষক অবসরের পরও লেখালেখি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. মাহতালাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন।
নিজের বিদায়ী বক্তব্যে আবেগে ভাসিয়ে প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন,
“আজকের এই দিনটি আমার জীবনের গর্বের ও আবেগময় অধ্যায়। আমার কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, তবে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে প্রিয় ও অর্থবহ অংশ। শিক্ষার্থীদের বলব—সময়ের কাজ সময়ে করলে সফলতা আসবেই। বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন দেখো, এগিয়ে চলো, সফলতা আসবেই। এই বিদায় সংবর্ধনা আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে।”

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাস্সুম নূর বলেন,
“স্যার ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ধৈর্য ধরে আমাদের বুঝিয়ে দিতেন। শুধু পাঠ্য বিষয়ই নয়, স্যারের ক্লাস থেকে আমরা অনুপ্রেরণাও পেতাম। স্যারের অভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করব।”
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মহিত বলেন,
“স্যারের মতো আন্তরিক ও মানবিক শিক্ষক খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু পড়ালেখা নয়, সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা এবং বাস্তব জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি শেখাতেন। আমরা ভাগ্যবান, এমন একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পেরেছি।”
এছাড়াও, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লাবণী আক্তার বিদায়ী শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম স্বর্ণা ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নানকে ডিসিপ্লিন এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়। তাঁর সহধর্মিণীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে একজন আদর্শ শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিঃশব্দ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে মিলনায়তনের প্রতিটি কোণে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *