মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
চন্দনাইশে কারিতাস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১,২৮০ বন্যার্ত পরিবার পেল নগদ সহায়তা, হাইজিন কিট ও ত্রাণ” চন্দনাইশের বরমায় ৩ হাজার ৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে আবদুর রহিম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ কাটাখালী-অন্তর মোড় সড়কে মরণফাঁদ: পাশ ভেঙে গভীর গর্ত, প্রাণ নিয়ে খেলা। চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, ১২ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার। চন্দনাইশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাতের ত্রাণ রোগীদের তরকারি নিজেই খেয়ে মান যাচাই করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট-পাঠদান ব্যাহত গোয়ালন্দে পদ্মার ক্যানালে বাঁশের সাঁকো ভেঙে হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ চন্দনাইশে পেশাজীবী দল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন চন্দনাইশে গোয়াল ঘরে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়েছে ৭ গরু-মৃত-১

কাটাখালী-অন্তর মোড় সড়কে মরণফাঁদ: পাশ ভেঙে গভীর গর্ত, প্রাণ নিয়ে খেলা।

মোঃ শফিকুল ইসলাম

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

 

চার হাত চওড়া। গভীরতা কত, তা কেউ জানে না। কাটাখালী থেকে অন্তর মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়কের পাশে তৈরি হওয়া এই গর্তটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের মাটি ধসে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। যে অংশটি বাকি আছে, তাতে গাড়ি ওল্টে পড়ার আশঙ্কায় প্রতিদিন শত শত মানুষের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় ঘুরছে এই দুর্ভোগ।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ডান পাশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। ভাঙা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সিমেন্টের বস্তা, কাঠের গুঁড়ি ও পাথর। রাস্তার যে অংশটি টিকে আছে, তার কিনারায় ফাটল। যেকোনো সময় বাকি অংশটিও ধসে পড়তে পারে। তবু থেমে নেই যানবাহন। ঝুঁকি নিয়েই চলছে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এক রিকশাচালককে যাত্রী নিয়ে সঙ্কীর্ণ সড়কের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে পার হতে দেখা যায়। রিকশার চাকা কোনো রকমে বাঁচিয়ে তিনি গর্তটির ধার ঘেঁষে নামিয়ে আনেন যাত্রীকে। জানালেন, “প্রতিদিন এই পথে যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। পাশটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে। একটু ভুল হলেই গর্তে পড়ে যাব। বিশেষ করে রাতে আর বৃষ্টির সময় তো কিছুই দেখা যায় না। তখন মনে হয়, জীবন নিয়ে খেলা করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কলকারখানার শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সবাই এই পথেই নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের এই দশা। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গর্তের আসল রূপ ঢাকা পড়ে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা তো প্রতিদিনই ঘটছে। বড় দুর্ঘটনারও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

কাছাকাছি একটি দোকানে বসেছিলেন বৃদ্ধ মোকছেদ আলী। তিনি বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে আমার নাতি স্কুলে যায়। প্রতিদিন ভয়ে থাকি। সংস্কারের জন্য লোকজনকে বলা হয়েছে, কিন্তু কেউ কানে তোলে না। একটা বড় দুর্ঘটনা না হলে যেন কারও চোখ খুলবে না।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে বালুর বস্তা ও গাছের গুঁড়ি ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না। বরং অস্থায়ী এই ব্যবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। কিন্তু বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত কী হবে এই হাজার হাজার মানুষের? তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাশের ভাঙা অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *