শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
চন্দনাইশে ৫ দিন বিরামহীন বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:
চন্দনাইশে গত ৫ জুলাই থেকে ৫ দিনব্যাপী ভারী বর্ষণ ও অভিরাম বৃষ্টির ফলে বৈদ্যুতিক খুটি, তাঁর ছিড়ে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে রয়েছে।দেখতে পারেনি বিশ্বকাপের ফুটবল খেলা।ছয়দাবাদে একটি গাছ উপড়ে পড়ে ৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়।এই সকল পরিবারের সদস্যরা অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর ছবুর। ধোপাছড়িতে পাহাড় ধ্বসে পড়ে ২টি বসত গৃহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।শঙ্খ নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গতকাল ৯ জুলাই, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টির ফলে উপজেলার ২টি পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খেটে-খাওয়া মানুষ ও জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী শঙ্খ নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীর আশে পাশের এলাকার বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। পল্লী বিদ্যুতের এ.জি.এম ইমতিয়াজ মো. জাহিদ বলেছেন, বিরাহমীন বৃষ্টির ফলে ৮৫টি স্পটে গাছ ভেঙ্গে পড়েছে, ১৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে, ৩ জায়গায় ক্রসআর্ম, ৬০টি স্পটে গাছ ভেঙ্গে পড়ে তাঁর ছিড়ে পড়েছে, ৩০টি‘র অধিক মিটার নষ্ট হয়েছে, ১৯ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের ৭টি ট্রান্সফরমার নষ্টসহ ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জানান।গত ৭ জুলাই, বিকালে হাশিমপুর ভান্ডারী পাড়া এলাকায় বিদ্যুতের প্রধান লাইনের খুটি ভেঙ্গে পড়ায় ৭৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতে ২৪ জন লোক বিরামহীন কাজ করছে।এদিকে, গত ৭ জুলাই দিবাগত রাতে হাশিমপুর ছৈয়দাবাদ এলাকায় একটি গাছ উপড়ে পড়ে নুরুল আলম, আবদুল আজিজ, আবদুর রশিদের বসতঘর ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়।তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একইভাবে ধোপাছড়িতে পাহাড় ধসে পড়ে ২টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্থ হলেও যানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান।তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সদরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, ইউনিয়ন ভিত্তিক ট্যাক অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়ণকেন্দ্র খোলা হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার চাল, চিড়া, মুড়ি, মোমবাতি, দিয়াশালাইসহ বিভিন্ন খাবার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান গতকাল ৯ জুলাই, সারাদিন উপজেলার সাতবাড়িয়া ˆবলতলী, বরকল, বরমা, চন্দনাইশ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের শুকনো খাবার বিতরণ করেন।৫দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির ফলে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি চন্দনাইশে। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন স্বাভাবিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ধোপছড়িসহ সারা চন্দনাইশে পাহাড়ি ঢলের পানি বসত ঘরে প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বন্যার ফলে শত শত মাছের ঘের ডুবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছ চাষিরা। পাশাপাশি দোহাজারি, ধোপাছড়ি, কাঞ্চননগর, হাসিমপুর, বৈলতলী, বরমাসহ বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।