শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
চন্দনাইশ থানার ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। বাগেরহাট জেলার দুই রত্ন এক ফ্রেমে মাধ্যমিক কর্মচারীদের ত্রাণ বিতরণ চন্দনাইশে বন্যার্ত ৫‘শ পরিবার পেল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ত্রাণ। অবশেষে বিতর্কিত চন্দনাইশ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি থানচিতে জমা দিয়েছে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীরপ্রধানসহ ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ চন্দনাইশে বন্যায় মৎস্য চাষি আবদুল হামিদের ৭০ লক্ষ টাকার ক্ষতি। চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল ও বীজ বিক্রয়ে জরিমানা। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সাবেক মেয়র লোকমান হাকিম ১০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ খাউলিয়া ইউপি নির্বাচন: দলীয় সমর্থনের আলোচনায় এগিয়ে তরুণ নেতা মো: আবু সালেহ খান

চন্দনাইশ থানার ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন

 

এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানা পুলিশের ত্রাণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারের ভূমিকা, ত্রাণের তহবিল এবং পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দুর্যোগে থানা পুলিশের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। দোহাজারী পৌরসভার সদর ২নং ওয়ার্ড বারুদখানা এলাকাটা বন্যায় আক্রান্ত না হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ওসি এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার কি নিজস্ব অর্থায়নে কোনো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ নিজের নামে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়ে থাকে, তবে কতজন বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছেছে এবং এ বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
পাশাপাশি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম যথাযথ ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন সময়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দুর্যোগকালে জেলা বা থানা পুলিশের মাধ্যমে সরাসরি ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা পরিপত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সাধারণত বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন নির্দেশিকা ও পরিপত্র প্রকাশ করা হলেও, ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা সেখানে পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
এদিকে, ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত দোহাজারীর বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কোন পদে কর্মরত, অথবা আদৌ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চন্দনাইশ থানার ওসিসহ বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং সরকারি দায়িত্ব বা পদমর্যাদা নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্দনাইশ থানার ওসি এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানা গেলে চন্দনাইশ থানার ত্রাণ কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র এবং এ বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছে তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *