রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
মানবিক সাহায্যের আবেদন জানালেন পরিবার চন্দনাইশের এয়াকুব ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে ঘরে চন্দনাইশে একটি সেতুর দাবি বরমা ও মধ্যম চরতিবাসীর। ১৮৮০ সাল থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধে চলছে কার্যক্রম চন্দনাইশে প্রতিকূলতা ঠেলে এগিয়ে চলেছে জোয়ারা পাগলা গারদ। চন্দনাইশে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরষ্কার বিতরণ। চন্দনাইশে ২ শ্রমিক পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেল। চন্দনাইশ সাতবাড়িয়া-বরকল-বৈলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন। চন্দনাইশ থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বাগেরহাট পিটিআইতে শিক্ষকদের প্রতীকী প্রতিবাদ সভা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ চন্দনাইশ দোহাজারী সরকার পাড়া সড়কের বেহাল দশা।

চন্দনাইশে একটি সেতুর দাবি বরমা ও মধ্যম চরতিবাসীর।

 

এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

নদীর বুকে চন্দনাইশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার চরাঞ্চল মধ্যম চরতি গ্রাম।যা চরতি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড হলেও মৌজা চন্দনাইশের বরমা। এখানকার মানুষ এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে শঙ্খ নদী পাড় হয় শুষ্ক মৌসুমে। বর্ষা এলে নৌকাই তাদের একমাত্র বাহন।
নদীবেষ্টিত এ গ্রামের বাসিন্দারা সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও যোগাযোগ স্থাপনে একটি সেতুর দাবি অনেক দিনের।অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও ভবিষ্যতে পাওয়ার আশায় উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হবার দাবি এ গ্রামের অধিবাসীদের। গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, অর্ধ কিলোমিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের এ গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হেফজখানা, ২টি মসজিদ থাকলেও আর কোন ধরনের সামাজিক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ২ শতাধিক পরিবারে সহস্রাধিক মানুষ পান, সবজি, আখ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে।শিক্ষার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফোরকানিয়া শিক্ষাশেষে শিক্ষার্থীদেরকে শঙ্খ নদী পাড় হয়ে বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিনিয়র মাদরাসা ও বরমা কলেজে লেখাপড়া করতে হয়।বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সময় জোয়ারের পানিতে এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।তখন চলাচলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না এ এলাকার মানুষের। মনজুর আলম বলেন, শঙ্খের ভাঙনের কারণে ১১ বার বসতঘর পরিবর্তন করে ২ ছেলে, ১ মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে অতিকষ্টে নৌকা চালিয়ে সংসার জীবন অতিবাহিত করছেন।স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ৬ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করছেন।সরকারি তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতা পান না বলে অভিযোগ তাদের। ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ২টি খাল পাড়ি দিয়ে ৫ কি.মি পথ অতিক্রম করে ব্রাহ্মণডেঙ্গা স্কুলে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়।সড়ক যোগাযোগে সুবিধার জন্য চন্দনাইশের যতরমুখ ঘাটের সাথে সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।বরমা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জাফর আহম্মদ বলেছেন, শঙ্খ নদী ভাঙনের কারণে চন্দনাইশ উপজেলার বরমার ৫ ও ৬ নং শিটে পরিবর্তন হয়ে গত ১৫ বছর পূর্বে মধ্যম চরতিতে সংযুক্ত হয়।এ দ্বীপে বসবাস করা অধিকাংশ মানুষ সাতকানিয়া উপজেলার।তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সাতকানিয়াতে।যদিও ২টি মৌজা চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নের। তাই মধ্যম চরতির অধিবাসীরা চন্দনাইশের বরমার সাথে সংযুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে অনেকবার আবেদন করেছেন। এ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, শঙ্খ নদীর বুকে জেগে ওঠা মধ্যম চরতি অংশটিতে চন্দনাইশের বরমা মৌজার শিটের অংশের পাশাপাশি সাতকানিয়ার চরতি মৌজারও জায়গা রয়েছে। ২শ ৭০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি পরিবর্তন করে বেইলি ব্রিজে রূপান্তর করলে এ অঞ্চলের মানুষের উৎপাদিত সবজি ন্যায্যমূল্য পেত। বরমার স্থানীয় বাসিন্দা কবি অভীক ওসমান বলেছেন, মধ্যম চরতি অত্যন্ত উর্বর জায়গা।এখানকার উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে।কিন্তু যোগাযোগের কারণে প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক পাশাপাশি এ এলাকার শিশু-কিশোররা শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে শঙ্খ নদীর উপর অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও একটি সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *