রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
মো: শফিকুল ইসলাম,
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় পদ্মা নদীর ক্যানালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাঁকোটি না থাকায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকে নদী সাঁতরে, নৌকায় অথবা দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে যাওয়া পুরোনো বাঁশের সাঁকোটির কিছু অংশ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। ওই ভাঙা অংশ ধরে কোনো রকমে নৌকাযোগে কিংবা সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন অনেকে, যা তাদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নুরাল মোল্লা জানান, বাঁশের সাঁকোটি বেশ পুরোনো হয়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে প্রচণ্ড ঝড়-বাতাস ও ঢেউয়ের ধাক্কায় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আপাতত নতুন করে একটি সাঁকো নির্মাণের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষক মোয়াজ্জেম চৌধুরী ও হাফিজুল মোল্লাসহ কয়েকজন বলেন, ‘সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা অনেক কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি। মাঠের ওপার থেকে ফসল আনা-নেওয়া করতেও আমাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানে স্থায়ীভাবে একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতো।’
খোদেজা আক্তার ও রওশনারা আক্তারসহ কয়েকজন নারী বলেন, তারা এই সাঁকো দিয়ে ওপারের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত যাওয়া-আসা করেন এবং তাদের সন্তানরা স্কুলে যায়। কিন্তু সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পথ ঘুরে চলাচল করতে গিয়ে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
গৃহিণী মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের চাষের জমি নদীর ওপারে। তাই বারবার ওপারে যেতে হয়। কিন্তু সব সময় নৌকা পাওয়া যায় না। অন্যের নৌকা বারবার চাইলেও তারা সব সময় দেয় না। বাধ্য হয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়, যা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্রুত একটি ব্রিজ বা নিরাপদ সাঁকো নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, শুষ্ক মৌসুম আসলে ওখানে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চেষ্টা চলছে।