রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
চন্দনাইশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাতের ত্রাণ রোগীদের তরকারি নিজেই খেয়ে মান যাচাই করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট-পাঠদান ব্যাহত গোয়ালন্দে পদ্মার ক্যানালে বাঁশের সাঁকো ভেঙে হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ চন্দনাইশে পেশাজীবী দল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন চন্দনাইশে গোয়াল ঘরে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়েছে ৭ গরু-মৃত-১ শরণখোলায় হাসপাতালের ওয়াশরুমে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে ৩ আসামী গ্রেফতার। খুলনায় মা ও গৃহিণীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে ৫ আসামী গ্রেফতার।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট-পাঠদান ব্যাহত

চন্দনাইশ ধোপাছড়িতে ৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

চন্দনাইশের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা ধোপাছড়িতে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। রয়েছে নানামুখী সমস্যা, শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। ফলে, ফলাফল বিপর্যয় ঘটে বার্ষিক পরীক্ষায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকার শিক্ষা বিস্তারের জন্য সরকার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন।কিন্তু পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিম ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদসহ ৩টি পদ খালি রয়েছে।৩ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন ছুটিতে, অপর জন অফিসের কাজে বাইরে থাকায় সহকারী শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা পুরো স্কুল পরিচালনা করছেন। ৬টি ক্লাসে ৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়।উত্তর ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০১ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছে মাত্র ২ জন।শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ৫টি।নৈশ প্রহরী না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে এ সকল স্কুল ভবন।প্রতি নিয়ত চুরির ঘটনার পাশাপাশি রাতে বহিরাগতদের উপদ্রবে অতিষ্ট শিক্ষকরা।প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম অতি কষ্টে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতনতার চেষ্টা করছেন বলে জানান। উত্তর ধোপাছড়ি মংলারমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের স্থলে প্রধান শিক্ষকসহ ৪টি পদ খালি রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক, শুরু থেকে নৈশ প্রহরী নেই।৬টি ক্লাসে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২ জন শিক্ষক। বাউন্ডারি না থাকায় একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্দন সুশীল।ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭১ জন শিক্ষার্থী জন্য রয়েছে ৩ জন শিক্ষক। ২০২৫ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকসহ ৪টি পদ খালি রয়েছে| নৈশ প্রহরী ও বাউন্ডারি না থাকায় চুরির ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। চিড়িংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছে ৪ জন।শিক্ষার্থী ৫২জনের মধ্যে অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়। প্রধান শিক্ষকসহ ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী কমপক্ষে ৪ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকার নিয়ম থাকলেও উত্তর ধোপাছড়ি মংলারমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষক থেকে ১ জন সহকারী শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূতভাবে বদলি হয়ে চলে যায়।ধোপাছড়ি এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে শিক্ষা ব্যবস্থা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ সকল বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা সময়মতো উপস্থিত থাকেন না।পাশাপাশি অধিকাংশ সময় ১/২ জন শিক্ষক বিভিন্ন অযুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। চন্দনাইশে ৩টি ক্লাস্টারে ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কারণে যথাযথভাবে মনিটরিং হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।এসকল বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কবির হোসেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *