বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট,
লালমনিরহাটে ৫ জন সাংবাদিক কে আটক রেখে লাঞ্চিত করে জেলে পাঠানোর হুমকীর ঘটনায় সহকারী কমিশনার কে এ ঘটনার পর ৭ ঘন্টার মধ্যে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে,
জমি খারিজ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়ায় ৫ জন সাংবাদিক কে নিজ কার্যালয়ে আটকে রেখে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল নোমান সরকারকে বদলি করা হয়েছে। তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বদলি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই সংক্রান্ত একটি আদেশ ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ রাত ৮ টা নাগাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) টি. এম. এ. মমিন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ৫ জন সাংবাদিককে আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। আটকে রাখার প্রায় ৪০ মিনিট পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) টি. এম. এ. মমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কার্যালয়ের গেটের তালা খুলে তাদেরকে মুক্ত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের অপদস্থ করেন। সেই সঙ্গে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। সাংবাদিকসহ সবাই ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর সবার শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা একজন টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেল আটকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এসিল্যান্ড।
এ ঘটনার পর সাংবাদিকরা শহরের মিশন মোড়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওই দিন দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টি এম. এ. মমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট তুলে নেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকরা জানান, সকাল থেকে এসিল্যান্ড অফিসের ৩জন অফিস সহকারী ভূমি সংক্রান্ত শুনানি করছিলেন। সেখানে এসিল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন না। মাইটিভি ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মাহফুজ সাজু ওই শুনানির ভিডিও ধারণ করেন। এতে অফিস সহকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এসিল্যান্ডকে ডেকে আনেন। এসিল্যান্ড আসার পর মাহফুজ সাজু জানতে চান যে, এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে অফিস সহকারীরা ভূমি সংক্রান্ত শুনানি করতে পারেন কি-না। এই প্রশ্ন করায় এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হন এবং তার নির্দেশে মাহফুজ সাজুকে আটকে রাখা হয়। ওই খবর পেয়ে সাংবাদিক নিয়ন দুলাল, এসকে সাহেদ, ফারুক আহমেদ ও কাওছার আহমেদ ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও আটকে রাখা হয়।
মাহফুজ সাজু বলেন, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত খারাপ আচরণ করা হয় এসিল্যান্ড অফিসে। এ বিষয়ে তথ্য নিতে গিয়ে সত্যতা পাই। সেইসঙ্গে দেখতে পাই যে এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে শুনানি হচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য চাইতেই এসিল্যান্ড আমাকে এবং পরবর্তীতে আমার সহকর্মীদেরও আটকে রাখেন। এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের সম্পর্কে খুবই অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি আমাদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।
উল্লেখ যে, আশ্বাসের ভিত্তিতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট বিষয় টি অবহিত করা হলে ঘটনার ৭ ঘন্টার মধ্যে ওই সহকারী কমিশনার কে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।