শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
মোঃ শাহীন হাওলাদার
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে নিরাপদ পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাগেরহাটের শরণখোলার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই প্রেক্ষাপটে BRAC-এর উদ্যোগে এবং BRAC Health Programme এর বাস্তবায়নে “Climate Change and Health Project” এর আওতায় শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি ইমার্জেন্সি হেলথ রেসপন্ডার গ্রুপ ইমার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।প্রকল্প কর্মকর্তা সনৎ কুমারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. কেয়া মনি, শরণখোলা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামীম হাসান, শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আফতাব ই আলম, ব্র্যাকের টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম অফিসার স্মৃতি কণা রায় এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক মামুন গাজী। এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, কমিউনিটি সদস্য, সাংবাদিক ও বিভিন্ন অংশীজন এতে অংশ নেন।সভায় জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগ প্রতিরোধ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি জোরদার, দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত সাড়া প্রদান এবং স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।আয়োজকরা জানান, ব্র্যাক সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটির অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। এই সমন্বয় সভার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পথ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা