শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
মোড়েলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাবেক আহ্বায়ক আবু সালেহ খান বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন – শহিদুল ইসলাম সোহাগ ক্যাম্প ন্যু-তে মহাকাব্যিক সমীকরণ: চিরশত্রুকে হারিয়েই কি শিরোপার রাজতিলক পরবে বার্সেলোনা? মা- এক অক্ষরের অনন্ত আশ্রয় একটি দেওয়াল, একটি সিদ্বান্ত স্বপ্ন ভেঙে দিলো শতাধিক পরিবারের। শরণখোলায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কার্ড ধারী জেলেরা। রাজশাহীতে ১০০০ পিচ ইয়াবা সহ যুবক গ্রেফতার আন্তর্জাতিক মে দিবসে মোরেলগঞ্জে শ্রমিক দলের উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সকল সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন।

খুলনায় নকশা ভঙ্গ করে ৯ তলা ভবন নির্মাণ, নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বেগ

 

নার্গিস রুবি:

 

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) আওতাধীন মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় ৭ কাঠা জমির ওপর একটি ৯ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ঠিকানা হিসেবে ভবনটির প্লট নং-১৫৬, রোড নং-০১, খুলনা সিটি কর্পোরেশন উত্তর উল্লেখ রয়েছে। তবে ভবনটি নকশা বিচ্যুতি করে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভবনে একাধিক অনিয়ম:

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভবনটিতে রয়েছে একাধিক গুরুতর ত্রুটি।

দায়সারাভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটি সাইনবোর্ড, যেখানে কেডিএ অনুমোদিত আবশ্যিক তথ্য নেই।
শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেফটি নেট বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়নি।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) এর বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা:

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নকশা বিচ্যুতির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ শুধু অনিয়মই নয়, বরং ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতায় শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের সাধারণ মানুষও বিপদের মুখে পড়বেন।

একজন নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ বলেন, “এ ধরনের ভবন শুধু নির্মাণশ্রমিকদের নয়, বরং পাশের বাড়ির বাসিন্দাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। কাঠামোগত দুর্বলতা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

স্থানীয়দের ক্ষোভ:

এলাকার বাসিন্দারা কেডিএর তৎপরতাকে স্বাগত জানালেও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, নগর উন্নয়ন খাতে দায়বদ্ধতার অভাবই এ ধরনের অনিয়মের জন্ম দেয়।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটি শুধু একটি ভবনের অনিয়ম নয়, বরং পুরো নগর উন্নয়ন খাতে শৃঙ্খলার অভাবের উদাহরণ। আমরা চাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”

কেডিএ’র বক্তব্য:

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার নূর আলম এবং ইমারত পরিদর্শক মাহবুব বলেন, ভবনটিতে নকশা ভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মালিকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে।

মালিকপক্ষ:

নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা হলেন—
১। কাজী আতিকুজ্জানান, ২। মোঃ আবদুস সালাম, ৩। মোস্তফা ওমর শরীফ, ৪। মোঃ শওকত আলী, ৫। জেসমিন নাহার এবং
৬। ফাতেমা খানম রাখী।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভবন মালিক বা তাদের পক্ষে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

করণীয়:

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয়রা মনে করেন, নিয়মিত তদারকি, দ্রুত আইনি পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিচারের মাধ্যমেই এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইন মেনে নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেডিএর এই উদ্যোগ যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য অবৈধ নির্মাণকারীদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *