রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
চন্দনাইশ পৌরসভার পশ্চিম হারলায় ২ যুগ পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি
এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম চন্দনাইশ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার ২ যুগ পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পশ্চিম হারলা এলাকায়। চলাচলের সড়কের বেহাল দশা, সড়ক বাতি নেই, পানীয় জলের সু-ব্যবস্থা না থাকাসহ সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে পশ্চিম হারলার সহস্রাধিক পরিবার। অথচ সময়মত দিতে হচ্ছে পৌরকর।
জানা যায়, ২০০২ সালে ২৫ আগষ্ট চন্দনাইশ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হারলা এলাকাটিতে দীর্ঘ ২৪ বছরে কোন রকম উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এই এলাকায় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের লোকজনের সাথে কথা বলে এলাকার সমস্যা তুলে ধরার মতো কেউ না থাকায় উন্নয়ন হয়নি বলে এলাকাবাসী মনে করেন।শহীদ মুরিদুল আলম সড়ক থেকে শুরু হয়ে শীতলা মন্দির সড়কটি এই এলাকা অতিক্রম করে চিকন খাল পেরিয়ে নিধারামপুর হয়ে চন্দনাইশ সদরে যুক্ত হয়।কিন্তু চিকন খাল থেকে পূর্ব পাশে সড়কটি পাশ্ববর্তী জমির মালিকানা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা কানু দেব (৬০)| শহীদ মুরিদুল আলম সড়ক থেকে হরিণার দিঘীর উত্তর পাড় পর্যন্ত ১ কি.মি. সড়ক গত ৫ মাস পূর্বে সংস্কার হয়েছে। তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে হরিণার দিঘী,জোড়ার দিঘীতে মৎস্য চাষীরা মাছের খাবার, মাছ বিক্রির বহনকারী ট্রাক চলাচল করার কারণে সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি বিষ্ণুপদ দেব বলেছেন, এই এালাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে থাকেন। নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান।নির্বাচন হয়ে গেলে আর কারো দেখা মিলে না এবং উন্নয়নও হয় না। অর্ধ-শতাধিক পরিবারের জন্য ব্রাকের পক্ষ থেকে কয়েক বছর পূর্বে একটি টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছে। অতি কষ্টে এলাকার মহিলারা সেই টিউবওয়েল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পানি নিতে হয়।পৌরসভার হওয়ার পর পর মেয়র আয়ুব কুতুবী সিঙ্গেল ইট দিয়ে সড়কটি ২০ বছর পূর্বে সংস্কার করেছিলেন।গত ৫ বছর পূর্বে সড়কটি সংস্কারের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরের মধ্যে বিরোধের কারণে সড়কটি আর সংস্কার হয়নি।তাছাড়া এই এলাকার মানুষ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ কার্ড, টিসিবি কার্ড সঠিকভাবে পাননি বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম হারলার মহাজন বাড়ী, শীতল বাড়ী, পূর্ব পাড়া, চৌধুরী পাড়া, সর্দ্দার পাড়া, শীল পাড়া, সামান্ত পাড়া, সিকদার পাড়া, আশ্চার্য্য পাড়া, বিশ্ব বাড়ী, কামার বাড়ীর সহস্রাধিক পরিবারের কয়েক হাজার লোক যে সড়ক দিয়ে চলাচল করে সড়কটি যেন চাষ দেওয়া ধানী জমি। সড়কটি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ার পাশাপাশি মাছের খাদ্য ও মাছ বহণকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারনে সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।বৃষ্টি হলে এ সকল গর্তে পানি জমে থাকে, সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করা দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না।সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বছরের পর বছর এমন অবস্থা চললেও মিলছে না প্রতিকার।এলাকাবাসীর অভিযোগ, বার বার সংস্কারের আশ্বাস দিলেও আলোর মুখ দেখছে না এলাকাবাসী।সড়কটি এই সকল বাড়ীর লোকজনের চলাচলের জন্য একমাত্র মাধ্যম।এই সড়ক দিয়ে বর্ষা মৌসুমে কোন রকম যানবাহন চলাচল করতে পারে না।এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে বাঁশের চালি বানিয়ে ৪ জনে মিলে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রধান সড়কে উঠতে হয় বলে জানিয়েছেন সন্তোষ চৌধুরী। তিনি বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে একাধিকবার আবেদন করে কেবল আশ্বাস মিলেছে, সংস্কার কাজ আলোর মুখ দেখেনি। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা সড়কটি বেহাল দশার কারনে বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করে।এ বিষয়ে চন্দনাইশ পৌরসভা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজীব মজুমদার বলেছেন, এই সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।আগামী অর্থ বছরে সড়কটি সংস্কারের আওতায় রয়েছে এবং একইসাথে সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।