শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
এস.এম.জাকির,
চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়াতে যৌতুকের জন্য মুক্তা আক্তার (২৬) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
গত ৩১ আগস্ট রাতে উপজেলার সাতবাড়িয়া পলিয়ার পাড়ার নদ্দিয়ার বাড়ি এলাকা থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। নিহত গৃহবধূ মুক্তা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর গ্রামের ভান্ডারী পাড়ার নাছির উদ্দিনের মেয়ে বলে জানা যায়। গত ৩১ আগস্ট বিকালে নিহত গৃহবধূ মুক্তা আক্তার অসুস্থ জানিয়ে তার পরিবারকে খবর দেয়া হলে মুক্তাকে অসুস্থ অবস্থায় দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে অন্তঃসত্ত্বা মুক্তা আকতার মারা যায়।
নিহত গৃহবধুর চাচাতো ভাই সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, ২০১৯ সালে মুক্তার সাথে প্রবাসী মো. পারভেজের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এ ছাড়াও মুক্তা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত তিন মাস পূর্বে পারভেজ ওমান থেকে দেশে আসে। দেশে আসার পর থেকে যৌতুকের জন্য উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন যৌতুকের দাবিতে মুক্তাকে মারধর করে ট্যাবলেট খেতে দেয়। সেগুলো খাওয়ার পর সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাদেরকে খবর দেয়া হয়। আমরা এসে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যান। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বরে তার দাবি। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বাম মো. পারভেজ (৩৬), শ্বাশুড়ি জাহানারা খাতুন (৫৪) পলাতক রয়েছে। চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচাজ গোলাম সারোয়ার বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।