মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
মোবাইলে ভিডিও দেখে সফটওয়্যার তৈরি: চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে সিআর পরোয়ানা ভুক্ত ১ আসামী গ্রেফতার। চন্দনাইশে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১, আহত-২ চন্দনাইশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মাগফেরাত কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল শোক সংবাদঃ জুলাই ও ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আলোচনা সভা রাজবাড়ীতে সরকারি স্কুলে তালা কেটে ল্যাপটপ চুরি সীমানা প্রাচীর নেই, নিরাপত্তাহীনতায় চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে ২৬৩ নং সরালিয়া বিশারীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসের: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে নতুন কুঁড়িতে চ্যাম্পিয়ন রংপুর অঞ্চলের স্ট্রাইকার কিসকুর পরিবারের পাশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

খুবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: শান্তি গঠনে কলা ও মানবিকবিদ্যার ভূমিকা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

“শান্তি কেবল চুক্তিতে নয়, আসতে হবে অন্তর থেকে”এই বার্তা নিয়েই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় কলা ও মানবিকবিদ্যা’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের উদ্যোগে শনিবার (২ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্ব এক ভয়াবহ সংঘাত ও বিভাজনের সময় পার করছে। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি কেবল রাজনৈতিক আলোচনায় অর্জিত হয় না, এর শিকড় খুঁজে পেতে হবে মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানবিক অভিজ্ঞতায়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শিক্ষার্থী ও তরুণরা গান, গ্রাফিতি ও সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। এগুলো ছিল কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং শিল্পের ভাষায় এক ঐক্যের আহ্বান এবং শান্তির প্রতীক।”

উপাচার্য শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “শিক্ষা শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের নয়, বরং সহানুভূতি, সহনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তন ও বৈশ্বিক সচেতনতার বিকাশ ঘটানোর মাধ্যম। এসব গুণাবলি গড়ে ওঠে সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, “সাহিত্য ও ইতিহাস মানুষের সহমর্মিতা, সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও সমালোচনাশক্তি গঠনে সহায়ক। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য কলা ও মানবিকবিদ্যার ভূমিকাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি গবেষণার সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের সম্মেলন জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ‘জুলাই বিপ্লব’ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে।”

কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান শাহীন। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন এবং ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক হামালনা নিজাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত হয় কলা ও মানবিক স্কুলের পরিচিতিমূলক তথ্যচিত্র। এরপর অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

সম্মেলনের প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়ার আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ কামারুল কাবিলান বিন আব্দুল্লাহ। তিনি শান্তিশিক্ষা প্রসঙ্গে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম ‘শান্তি, ন্যায় ও মানব উন্নয়নে কলা ও মানবিকবিদ্যার ভূমিকা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে (রবিবার) প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক গবেষক অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে উপস্থাপিত হবে মোট ১৬৫টি গবেষণা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *