শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :-
মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা। এই রাজ্যের স্ব-ঘোষিত রাজা গোদাগাড়ী সরমংলা গ্রামের মাদক সম্রাট আকবর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান ( মিজান ) (৪০) স্বমহিমায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালে ১ কেজি মাদকসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হয় মিজান। গ্রেফতার হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে ছাড়া পাওয়ার জন্য ১০ লাখে চুক্তি হয়। লোক জানাজানি হওয়াতে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ২০ গ্রাম মাদকসহ চালান করে মিজানকে। সেখান থেকেও অগাধ টাকা খরচ করে বেরিয়ে আসেন তিনি। আবারো শুরু করেন মাদক ব্যবসা।
পদ্মা নদীর পাড় ঘেষা ভারতের সীমান্ত।আলাতুলি ইউনিয়নের জেলেপাড়া গ্রামেই মিজানের ছিল বসবাস। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বাড়ি হওয়ায় খুব অল্প বয়সে জড়িয়ে পরে হিরোইন ব্যবসায়। কালের ফেরে অগাধ টাকা জমে যাওয়ায় ভালো লাগেনি তার খরকুটোর ঘর। রাজকীয় বাড়ি করেন সরমংলা এলাকায়।
এতে রাজনৈতিক চাপে পড়েন মিজান। সমস্ত চাপ নিরসনে হাত মেলান গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে। শুরু হয় ভাগ্য বদল। প্রশাসনের সাথে লেয়াজু করেন। বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে নিয়মিত খরচ ডোনেট করেন মিজান।
নাম গোপন রাখার শর্তে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানায় মিজানের মাদক বাহক হিসেবে একজন নৌকার মাঝি ও একজন দরিদ্র মাদ্রাসার শিক্ষককে ব্যবহার করে। বিনিময়ে তাদের কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি করে দিয়েছে । দেশজুড়ে মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলায়, গোদাগাড়ীর সরমংলা গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গা ঢাঁকা দেয় মিজান। সে রাজশাহীর আলিপুরে আনুমানিক প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি করে সেখানে থাকে এবং যুবলীগ এর এক নেতাকেও সে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে আলিপুরে বাড়ি করে দিয়েছে। এবং গোদাগাড়ীর আমতলা মোড়ে মার্কেট,কৃষি জমিসহ নামে বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছে এবং আরও জানা যায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। তেমনি একজন সরমংলা গ্রামের তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এই মাদকের জন্য যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং চুরি, ছিনতাই, চাদাবাজি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোদাগাড়ীবাসীর দাবি এই মাদক সম্রাটদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। গোদাগাড়ী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মিজান বিগত ১৫ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করেছেন আওয়ামী নেতাদের পিছনে। সরকার পতনের পর ভোল পাল্টিয়েছে মিজান। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে এখন অন্য দল ঘেঁষে রাজনীতি করছেন এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে খাবার সরবরাহ করছেন নিজ খরচে। মিজানের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বালুমহল, হাটবাজার, ভূমি দখল করে, প্লট ব্যবসায়ী হিসেবেও আধিপত্য বিস্তার করেছেন । সেই ধারা অব্যাহত রাখতেই নতুন রাজনীতির সাথে জড়িয়েছেন মিজান। গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিন এর কাছে মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা মাদকের বিষয়ে জিরোটলারেন্স। আমাদের নিয়মিত মাদকের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতি পূর্বে মাদক উদ্ধার করেছি। গোদাগাড়ী হিরোইন আসার রূট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের থানার একটি বর্ডার আছে চর আষাঢ়িয়াদহ বাকিগুলো চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকায়।