শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
নার্গিস রুবি:
রাজধানীর মিরপুর-১২, ব্লক-ই, রোড নং ১০/১, প্লট নং ০৯ ও ১১-এ অর্ণিবান সাউথ ক্যাস্টল নামের একটি তিনতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই ভবনে অতিরিক্ত নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) করে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে:
নির্মাণকাজে শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য সেফটি নেট, সেফটি গার্ড বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়নি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
রাজউকের অবস্থান:
রাজউকের ৩/১ জোনাল অফিসের অথরাইজড অফিসার শেখ মাহাব্বীর রনি এবং ইমারত পরিদর্শক ফয়েজ জানিয়েছেন, ভবনের নকশা লঙ্ঘনের কারণে ইতিমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে ভবন মালিক নিজের নাম প্রকাশ না করে দাবি করেছেন, “আমার ভবনের নকশা ঠিক আছে। রাজউকের সাথে সম্পর্ক রেখেই ভবন নির্মাণ করছি।”
বহুমুখী অনিয়ম ও আইনি লঙ্ঘন:
সেটব্যাক উপেক্ষা: প্রতিটি তলায় নির্ধারিত সীমার বাইরে বারান্দা ও ছাদ তৈরি।
নিরাপত্তাহীনতা: শ্রমিকদের জন্য কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:
নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী লোড-বিয়ারিং কাঠামো না মানলে ভবনের ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় এ ধরনের নির্মাণযজ্ঞ যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
একজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন— “রাজউকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও নজরদারির অভাব চলতে থাকলে ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ধ্বংস হয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের দাবি:
১. অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করা,
২. স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন,
৩. দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা,
৪. সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা,
৫. স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ দল গঠন।
স্থানীয়রা বলেন, “এটি শুধু একটি ভবনের নকশা লঙ্ঘন নয়; বরং ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ।”
বিশেষজ্ঞ ও নগরবাসীর মতে, আইন প্রয়োগ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা ছাড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।