শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
মোড়েলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাবেক আহ্বায়ক আবু সালেহ খান বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন – শহিদুল ইসলাম সোহাগ ক্যাম্প ন্যু-তে মহাকাব্যিক সমীকরণ: চিরশত্রুকে হারিয়েই কি শিরোপার রাজতিলক পরবে বার্সেলোনা? মা- এক অক্ষরের অনন্ত আশ্রয় একটি দেওয়াল, একটি সিদ্বান্ত স্বপ্ন ভেঙে দিলো শতাধিক পরিবারের। শরণখোলায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কার্ড ধারী জেলেরা। রাজশাহীতে ১০০০ পিচ ইয়াবা সহ যুবক গ্রেফতার আন্তর্জাতিক মে দিবসে মোরেলগঞ্জে শ্রমিক দলের উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সকল সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন।

রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানের পরও থামেনি নির্মাণকাজ

 

 

পশ্চিম আগারগাঁওয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

নার্গিস রুবি:

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও ভবন মালিক পুনরায় নির্মাণকাজ চালিয়ে গিয়ে ভবনটি অষ্টম তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন।

জানা গেছে, রাজউকের জোনাল অফিস ৩/২ এর আওতাধীন কাফরুল মৌজার সি.এস দাগ নং–৪৮৩, এম.এস দাগ নং–৯৫২১ এবং আর.এস দাগ নং–২২৮ এর প্লট নং ১৩৪/১, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজউকের নির্মাণ অনুমোদনের স্মারক নম্বর ২৫.৩৯.০০০০.০৯৮.৩৩.১৮৬৮.২১। ভবনের মালিক হিসেবে কামরুন নাহার গং-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। ভবনের স্থপতি হিসেবে তাবাচ্ছুম রিফাত সৈকত (IABNO-S-159) এবং প্রকৌশলী হিসেবে মোঃ তাসলিমা উদ্দিন (FIEB-8339)-এর নাম সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত হয়েছে।

সাইনবোর্ডে আরও উল্লেখ রয়েছে, রাজউকের অনুমোদন অনুযায়ী বেসমেন্ট বাদে জি+৭ অর্থাৎ মোট ৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি তলার আয়তন ১৪৯.০৫ বর্গমিটার। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর ২০২৩ এবং কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজউক একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় ভবনটি সাত তলা পর্যন্ত নির্মাণাধীন ছিল। অভিযানের পর কিছুদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও পরে পুনরায় কাজ শুরু করে ভবনটি অষ্টম তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সাথে ভবন মালিকের অনৈতিক যোগাযোগের কারণে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। তারা দাবি করেন, উচ্ছেদ অভিযানের পর রাজউকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে রাজউকের জোনাল অফিসের অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ইমারত পরিদর্শক এবং ভবন মালিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে। যথাযথ তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *