বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
শরণখোলা থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নোয়াখালীতে তৈরি করেছেন বিলাশ বহুল বাড়ী
আছে এমবিবিএস ডাক্তারের সনদ, নেই বিএমডিসির কোন রেজিষ্টেশন নাম্বার । তবুও তিনি এমবিবিএস ডাক্তার । ঢাকার নীল ক্ষেত থেকে বানানো ভ‚য়া এমবিবিএস সনদ দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে শরনখোলায় মাহমুদুল হাসান (স্বপন ) নামে এক প্রতারক অর্থপেটিক্সে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি প্রতিষ্ঠানে বসে সাধারন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। প্রতারক মাহামুদুল হাসান (স্বপন) গত পাচঁ বছরে শরণখোলা থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নোয়াখালীতে তৈরি করেছেন বিলাশ বহুল বাড়ী
সম্প্রতি দুদুক অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযানে এলে তার এমবিবিএস ডিগ্রীর সনদ যাচাই -বাছাই করে দেখেন প্রতারক মাহামুদুল হাসানের এমবিবিএস সনদ ভ‚য়া ।
পরে ২৫ ফেব্রয়ারী বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ মো. মাহাবুবুর রহমান ও দুদুকের নেতৃত্বে ফের তার বিরুদ্ধে অভিযানে এলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় , প্রতারক মাহামুদুল হাসান সিজারিয়ান অপারেশন , আল্ট্রা সনোগ্রাম , হার্ট, লিভার, হাড় ভাঙ্গার , ও কিডনি রোগ সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা দিতেন। প্রতাক মাহামুদুল হাসান ২০১৯ সালে শরণখোলায় এসে এমবিবিএস ডাক্তার হিসাবে পদ্মা ডায়গনস্টিক সেন্টারে চাকরী নেন । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অভিযান এলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । পরে তার বিরুদ্ধে পদ্মা ডায়গনস্টিক সেন্টারে মালিক একটি প্রতারনা মামলা করেন আদালতে । ওই মামলায় তিনি দুই মাস জেলও খেঠেছেন ।
প্রতারক মাহামুদল হাসান (স্বপন) নোয়াখালীর লক্ষীপুরের মিরপুর এলাকার আ.কাদেরের ছেলে । শরণখোলায় এসে এই প্রতাকর অন্য এক মাহামুদুল হাসানের বিএমডিসি রেজিস্টেশন ব্যবহার করতো যে রেজিস্টেশন নাম্বারটি ছিলো ( রেজিঃ নং এ ৬২৬১২)।
তিনি নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য তৈরি করেছিলেন বিশাল দালাল চক্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও শরণখোলার স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়মিত টাকা দিয়ে থাকেন ।
এ বিষয়ে মাহামুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিএমডিসি রেজিষ্টেশন নাম্বার নেই তবে আমি এমবিবিএস (এএম) ডাক্তার । আমি ইন্ডিয়া থেকে পাশ করেছি আমি অনেক বড় বড় ডাক্তারের চেয়ে ভালো চিকিৎসা জানি
বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন , মাহমুদুল হাসান (স্বপন) কোন ডাক্তার নন । তার এমবিবিএস সনদ ভ‚য়া । তিনি এতো দিন চিকিৎসার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারন করে আসছেন । আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযান করে তার চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছি এবং কেউ যাতে প্রতারক মাহামুদুল হাসানের কাছ থেেেক চিকিৎসা গ্রহন না করে সে বিষয়ে সকল কে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি ।