বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ ও এর উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত দুই দিন তুলনামূলক কম বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। তাই জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি কমেছে। আজ বুধবার সারা দিনেও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এতে বন্যাকবলিত মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
তবে নদীর পানি কমলেও হাওরে ও গ্রামীণ জনপদে পানি অনেকটা স্থিতিশীল আছে। কোথাও কোথাও সামান্য বেড়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে এখনো বন্যার পানি আছে। গ্রামীণ সড়কে পানি থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে এখনো সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, এবার তাঁর উপজেলায় পাহাড়ি ঢল নেমেছে বেশি। তবে আজ পানি কিছুটা কমেছে। ভারী বৃষ্টি না হলে পানি আরও কপানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা তিনটায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৮০ মিটার। এটিই এখানে পানির বিপৎসীমা। গতকাল মঙ্গলবার একই সময়ে এখানে পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। তবে সুনামগঞ্জের ছাতকে এখনো সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ২৫ মিলিমিটার। একই সময়ে চেরাপুঞ্জিতে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুই স্থানেই বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীর পানি কমেছে। তবে এখনো তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলায় মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি আছে। কিছু কিছু এলাকায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন। পৌর শহরের কালীপুর, হাসননগর, পাঠানবাড়ি, বড়পাড়া, জলিলপুর ও ওয়েজখালী এলাকার মানুষের ঘরবাড়িতে পানি আছে। কালীপুর এলাকার সড়কে আজও পানি রয়েছে।
কালীপুর এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল আমিন (৪৮) বলেন, ‘আমরার ঘরবাড়ির বেশি ক্ষতি অইছে। ঈদের দিন ঘর ছাড়ছিলাম। ১০ দিন বাইরে আছলাম। অখনো উঠানে পানি। খানি নাই। হাত খালি। কিলা ছলতাম।’ একই গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ আলী (৬০) জানান, সড়কের পাশের একটি উঁচু ভবনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার জন্য যখন প্রস্তুতি নেন, তখন আবার পানি বেড়ে যায়। ইলিয়াছ বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। হাওরে মাছ ধরি খাই। বইন্যায় আমরারে শেষ করিলায়।’মবে।