সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা গ্রাহক: রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিলের অভিযোগ মানবিক সাহায্যের আবেদন জানালেন পরিবার চন্দনাইশের এয়াকুব ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে ঘরে চন্দনাইশে একটি সেতুর দাবি বরমা ও মধ্যম চরতিবাসীর। ১৮৮০ সাল থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধে চলছে কার্যক্রম চন্দনাইশে প্রতিকূলতা ঠেলে এগিয়ে চলেছে জোয়ারা পাগলা গারদ। চন্দনাইশে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরষ্কার বিতরণ। চন্দনাইশে ২ শ্রমিক পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেল। চন্দনাইশ সাতবাড়িয়া-বরকল-বৈলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন। চন্দনাইশ থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বাগেরহাট পিটিআইতে শিক্ষকদের প্রতীকী প্রতিবাদ সভা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ

শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা গ্রাহক: রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিলের অভিযোগ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

​বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের মিটার না দেখেই মনগড়া ও ‘ভুতুড়ে’ বিল ধরিয়ে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এসব অস্বাভাবিক বিলের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগে যে পরিবারের মাসিক বিল আসতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে সেখানে তাদের গুনতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
​রোববার (২৮ জুন) সকালে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মেলে। কার্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষকে একই অভিযোগ নিয়ে ভিড় করতে দেখা যায়। অতিরিক্ত বিলের বোঝা আর হয়রানির কারণে তাদের চোখে-মুখে ছিল ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের ছাপ।
​ভুক্তভোগীদের দাবি, মাঠপর্যায়ের মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং সংগ্রহ করেন না। তারা অফিসে বসেই ইচ্ছেমতো ইউনিট বসিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিলের অঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেড়ে গেছে।
​অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসা রায়েন্দা বাজারের গ্রাহক আফরোজা সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে আমার সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৫০ ইউনিটের বিল আসতো। অথচ এবার মিটার না দেখেই মনগড়াভাবে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৬৭৩ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। মিটার রিডাররা এলাকায় না এসেই আন্দাজে বিল লিখে দেন। আজ বাধ্য হয়ে অফিসে এসেছি অভিযোগ করতে।”
​একইভাবে রাজৈর গ্রামের কবির মল্লিকের আগের ১৮০-২০০ টাকার বিলের জায়গায় মে মাসে এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। উত্তর তাফালবাড়ির হামিদা বেগমের ৮০০ টাকার বিল আসার পর অভিযোগ করলে তা সংশোধন করে ২০০ টাকা করা হয়। এছাড়া গোলবুনিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন গাজীর নিয়মিত ৬৫০-৭০০ টাকার বিলের জায়গায় ১ হাজার ৪৯০ টাকা এবং পূর্ব আমড়াগাছিয়া গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের ৫০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৯৪ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে।
​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে রাজৈর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ক্ষেত্রে। তার নিয়মিত ৩৫-৫০ ইউনিটের স্থলে ৩২৫ ইউনিটের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ‘দৈনিক সকালের সময়’-এর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তাৎক্ষণিক তা সংশোধন করে ৪৫ ইউনিটে নামিয়ে আনা হয়।
​উপজেলার সর্বত্রই এখন পল্লী বিদ্যুতের এই ভুতুড়ে বিলের মহোৎসব চলছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সাউথখালী ও ধানসাগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অসংখ্য গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কাগজ হাতে নিয়ে অফিসে এসে ভিড় করছেন।
​এ বিষয়ে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী জেনারেল ম্যানেজার) বলেন, “আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থেকে থাকলে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই মনগড়া বিলিং প্রথা বন্ধ করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের মিটার রিডারদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে। অনতিবিলম্বে এসব ভুতুড়ে বিল বাতিল করে প্রকৃত রিডিং অনুযায়ী বিল প্রণয়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *