শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
মোঃ শাহীন হাওলাদার
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত সদস্য আবারও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
এর আগে ২০১৮ সালেও অস্ত্র ও গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেছিল সুমন হাওলাদার। সে সময় তার সঙ্গে সিদ্দিক হাওলাদারও আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে গত ৫ আগস্টের পর সুমনের নেতৃত্বে সিদ্দিকসহ সাতজন পুনরায় সুন্দরবনে দস্যুতা শুরু করে বলে জানা গেছে।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন— মোংলা উপজেলার সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী এখন ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।তিনি আরও জানান, অভিযানের চাপে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান,২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি জব্দ করা হয়।পরে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।