শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
রাজশাহীকে নতুন করে সাজাতে চাই: রাসিক প্রশাসক সুন্দরবনে ‘আগে চাঁদা, পরে মধু’, দস্যুদের দাপটে বিপাকে মৌয়ালরা রাজধানীর মিরপুর-১ এর দারুসসালাম রোড এলাকায় নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বিতর্কিত নিয়োগ: ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানকে ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির গুরুতর অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ক্ষয়ক্ষতি ১০ লক্ষাধিক টাকা চন্দনাইশের দোহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত আমরা স্বার্থপর, তবুও মানুষ হিসেবে আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি! রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ, থামেনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ কাজ BNP Network” কেন্দ্র করে বিএনপির বিজিএন: তৃণমূল-কেন্দ্র সংযোগ জোরদার রাজশাহীবাসী আরও উন্নত নগর সেবা পাবে

চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বিতর্কিত নিয়োগ: ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানকে ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির গুরুতর অভিযোগ

 

নিজস্ব সংবাদদাতা:

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড-এ চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে ক্যাপ্টেন আবু নাছের আহমেদ ইমরান’র নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা-সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নিয়োগের পরপরই তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা সংস্থার নিরাপত্তা সংস্কৃতি, নৈতিক মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক বিধিমালার প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগের তালিকা
ক্যাপ্টেন আবু নাছের আহমেদ ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহের মধ্যে রয়েছে—
নারী কেবিন ক্রুদের প্রতি

অনুপযুক্ত আচরণ ও হয়রানির অভিযোগ

দায়িত্ব পালনকালে নিষিদ্ধ বিমানবন্দর এপ্রন এলাকায় ধূমপানের জন্য সতর্কতামূলক চিঠি

ফ্লাইট পরিচালনাকালে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) লঙ্ঘন

পেশাগত অসদাচরণের জন্য শাস্তিমূলক নথি

ফ্লাইট পরিচালনার পূর্বে ব্রেথালাইজার অ্যালকোহল (ডোপ) টেস্ট দিতে অস্বীকৃতি
অভিযোগ রয়েছে,
তিনি ককপিটের তুলনায় বিমান গ্যালিতে অধিক সময় অতিবাহিত করতেন এবং নারী ক্রুদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণে জড়িত ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে মুঠোফোনে তার নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন নারী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে অসৎ আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে অন্যান্য অভিযোগ কথোপকথনে অকপটে স্বীকার করেন।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রশ্ন

চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদটি সরাসরি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। International Civil Aviation Organization (ICAO)-এর Annex 19 (Safety Management) এবং Doc 9859 (Safety Management Manual) অনুযায়ী এ পদে নিয়োজিত ব্যক্তির উপর সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (SMS) বাস্তবায়ন ও তদারকির পূর্ণ দায়িত্ব বর্তায়।
এছাড়া Annex 1 (Personnel Licensing – Professional Conduct) অনুযায়ী একজন ফ্লাইট ক্রুকে সর্বোচ্চ পেশাগত শৃঙ্খলা, বিচক্ষণতা ও আচরণগত মান বজায় রাখতে হয়।
জাতীয় বিধিমালা ANO OPS – B2 (CAAB) অনুযায়ী চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজন—
CAAB কর্তৃক গ্রহণযোগ্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
এয়ার অপারেটরের AOC, অপারেশন স্পেসিফিকেশন, অপারেশন ম্যানুয়াল ও SMS সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান
পর্যাপ্ত বিশেষায়িত সেফটি প্রশিক্ষণ
ATPL ধারণ বা পূর্বে ধারণ করা
ফ্লাইট ডাটা ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা
তথ্যসূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন ইমরান কোনো বিশেষায়িত সেফটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেননি; কেবল বার্ষিক সেফটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ হিসেবে গণ্য হয় না।
নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও CRM ঝুঁকি
বিমান চলাচলে Crew Resource Management (CRM) নীতিমালা সম্মান, পারস্পরিক আস্থা ও মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্বের আচরণ CRM নীতির পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নিয়োগের ফলে—
স্বেচ্ছামূলক রিপোর্টিং সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
ক্রুরা প্রতিশোধের ভয়ে রিপোর্ট দাখিল থেকে বিরত থাকতে পারেন
“Just Culture” নীতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে
ICAO USOAP বা IOSA অডিটে আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে
এতে সংস্থার SMS-এর অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নারী নেতৃত্বের অধীনে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে একজন নারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, নারী সচিব (MOCAT) এবং নারী মন্ত্রীর প্রশাসনিক নেতৃত্বে—যেখানে কেবিন ক্রুদের উত্থাপিত হয়রানির অভিযোগ উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আফরোজা খানম (এমপি)-এর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জনমনে প্রশ্ন
একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা, যার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক নথি বিদ্যমান, তাকে ফ্লাইট সেফটির মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে—সে প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা-নেতৃত্বের পদে ব্যক্তিগত আচরণ, নৈতিক মান ও পেশাগত সততা সর্বাগ্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় তা শুধু সংস্থার ভাবমূর্তিই নয়, যাত্রী নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত ও ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *